
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জের মানুষ
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত-কে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দুই উপজেলায় চলছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস; পাশাপাশি জোরালো হয়েছে একটি দাবি—“মিল্লাতকে মন্ত্রী করা হোক”।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বেকারত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি—এসব সমস্যায় জর্জরিত দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারাচ্ছে। ভাঙনরোধে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং বেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, মিল্লাত মন্ত্রী হলে এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়াও দুই উপজেলার সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকাকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক জীবনে অভিজ্ঞ ও তৃণমূলঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এমপি থাকাকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তিনি সব দলের মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। নির্বাচনে মিল্লাত মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক সাঈদী পান ৯৬ হাজার ৭৮৩ ভোট। বিশাল এ ব্যবধান তার জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সারোয়ার ই আলম বলেন, “এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক। তিনি সবসময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে জামালপুর-১ আসনের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।”
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হাবিব পলিন বলেন, “দীর্ঘদিন পর এ আসনটি পুনরুদ্ধার হয়েছে। জনগণ উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রত্যাশায় মিল্লাতকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এখন তাদের একটাই দাবি—তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।”
এদিকে সাধারণ ভোটাররাও মনে করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে তিনি দুই উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারবেন। বিশেষ করে নদীভাঙন রোধ, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তায় বড় প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে একটি সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব।
সচেতন মহলের অভিমত, তৃণমূল থেকে উঠে আসা, অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে শুধু দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ নয়, সমগ্র জামালপুর জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে। এখন দেখার বিষয়—দলীয় সিদ্ধান্তে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্ত্রিসভায় জায়গা পান কি না।
মন্তব্য করুন