
নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখলে দেশও পরিষ্কার থাকবে: ডা. শফিকুর রহমান
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)
রাজধানীর মিরপুর এলাকার মনিপুরে ভোরের নীরবতা ভেঙে এক ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিলেন সম্মানিত বিরোধী দলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি রাস্তায় নেমে ঝাড়ু হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে তিনি নিজ হাতে রাস্তার ময়লা-আবর্জনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন এবং তা নির্দিষ্ট গাড়িতে তুলে দেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ধরে তিনি এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদেরও তিনি পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
“পরিবেশ সুন্দর হলে মানুষের মনও সুন্দর হয়”
কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,
“আপনারা জানেন, গতকাল আমরা সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছি। আমরা সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই, ইনশাআল্লাহ। সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের আবর্জনা দূর করতে চাই। রাস্তার ময়লা পরিষ্কারের পাশাপাশি মানুষের মনের ময়লাও দূর করতে চাই। মানবিক সংশোধনের জন্য আমাদের আজকের এই অভিযান।”
তিনি আরও বলেন,
“আজকের এই অভিযানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা মিরপুরবাসী ও দেশবাসীকে একটি বার্তা দিতে চাই— আমরা একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়তে চাই। পরিবেশ সুন্দর থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতে পড়ে। তখন মানুষ দায়িত্বশীল ও সমাজমুখী হয়ে ওঠে।”
নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আহ্বান:
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমরা যদি আন্তরিকভাবে নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে পারি, তাহলে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটি লোক দেখানো কোনো কর্মসূচি নয়, বরং একটি সূচনা। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর প্রত্যেক ইউনিট সংগঠনকে অন্তত আধা ঘণ্টা সময় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ব্যয় করতে হবে। সম্ভব হলে এক ঘণ্টা। এরপর পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সেবামূলক কাজেও যুক্ত হতে হবে।”
তিনি মিরপুর এলাকাকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,
“আমরা সরকারি ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করব না। তবে ন্যায্য প্রাপ্য থেকে যেন এই এলাকা বঞ্চিত না হয়, সে দাবি থাকবে।”
‘জুলাই’ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গ:
রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের শপথ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল। এই জুলাইয়ের কারণেই নির্বাচন হয়েছে, জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং আমি বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছি। জুলাই না এলে কি আমরা এই অবস্থানে আসতে পারতাম? তাই জুলাইকে অবশ্যই স্বীকৃতি ও সম্মান দিতে হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যেসব সংস্কার প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব, আর উদ্যোগ না নিলে জনগণের হয়ে কথা বলব— কিন্তু ছেড়ে দেব না।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দসহ ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোঃ সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমীর আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
ভোরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। অনেকেই এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
মন্তব্য করুন