অনলাইন ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:০৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাউজানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কাছে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে।

 

নিহত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আবদুল মজিদ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া, বিয়ের ঘটক হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।

 

নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‌ইফতার শেষ করে বাসা থেকে বের হন আবদুল মজিদ। অলিমিয়াহাট বাজারে একটি দোকানে বসে ছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। এর আগেও আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছিল। এবার তাকে গুলি করে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা।

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাউজান থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে আমার ভাইয়ের ওপর দুবার হামলা করা হয়েছিল। সেসময় তিনি বেঁচে যান। এবার আর বাঁচতে দেয়নি তারা।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে ভাবতে বললেন তামিম

 

উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলাল বলেন, দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করার পর আমার ওপরও হামলা করতে চেয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি পালিয়ে রক্ষা পেয়েছি। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক টিপলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়েছে। শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়। বাকিটা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।

 

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি একই বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে একই কায়দায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার দেড় মাস পার হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাহাজ আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ ও বর্বর’ পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘে অভিযোগ ইরানের

ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

তেল-গ্যাস সংকটে যেন কেউ সিন্ডিকেট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে সরকার: রিজভী

কাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে কৃষক-ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া হবে

সন্ধ্যার মধ্যে চার অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

বিগত স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাচ্চাদের জন্য টিকা আনেনি: প্রধানমন্ত্রী

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

১০

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে আরও ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র

১১

জামালপুরে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

১২

জাতীয় সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

১৩

রাজধানীর গুলশানে সিসাবারে অভিযান, সেবন সামগ্রী জব্দ

১৪

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

১৫

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

১৬

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

১৭

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

১৮

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

১৯

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

২০