
‘সারা রাত জেগে জেগে
কত কথা আমি ভাবি
পাপড়ি কেন বোঝে না
তাই ঘুম আসে না।’
পপসম্রাট আজম খানের এই গান যেন এক অতৃপ্তির বহিঃপ্রকাশ। যেই প্রকাশে আছে বিচ্ছেদের সুর, একরাশ হতাশা আর হৃদয় নিংড়ানো আবেগের ফুলঝুরি। ‘গুরু’খ্যাত আজম খান আসলেই কেন এই গান করেছিলেন। ‘পাপড়ি’ আসলে কে? আদতেই কি সেই নামে কোনো অপ্সরা বিরাজ করতেন? তাদের মধ্যে কি কখনও কোনো বোঝাপড়া ছিল? যদি থেকেই থাকতো, তাহলে সেই ‘পাপড়ি’ কোথায়?
‘পাপড়ি’ গানটি শুনে ওপরের প্রশ্নগুলো কারও মনে একবারও উঁকি দেয়নি, এমনটা হতেই পারে না। কিন্তু এসব প্রশ্ন এতদিন আজম খানের খুব কাছের মানুষ ছাড়া জানতো না তেমন কেউ।
সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের সাপ্তাহিক আয়োজন ‘ছুটির রাতে লাইভ’ অনুষ্ঠানে আসেন আজম খানের ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। সেখানে সঙ্গীত পরিচালক পার্থ মজুমদার জানান সেই গল্প। তার কথায় স্পষ্ট হয়, কে এই পাপড়ি, তার সাথে কী সম্পর্ক ছিল আজম খানের।
পার্থ মজুমদার বলেন, পাপড়ি আজম খানের মনের মানুষ ছিলেন। তরুণ বয়সে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল। কিন্তু ঈশ্বরের লেখনী দু’জনকে আলাদা করে দেয়। তাদের প্রেম পরিণয়ে রূপ নেয়নি। তাই হয়ত দু’জন আলাদা হয়ে গেলেও একটা টান অনুভব করতেন।
তিনি বলেন, তখন আজম খান খুব অসুস্থ। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিঙ্গাপুরে। রোগে কাতর ‘গুরু’ শুয়ে আছেন স্ট্রেচারে। এমন সময়ে পুরনো সেই প্রিয় মানুষটির খোঁজ নিতে ফোন করেন পাপড়ি। জানতে চান, কেমন আছেন তিনি।
উল্লেখ্য,বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পপসম্রাট আজম খানের জন্ম ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনিতে। তার পুরো নাম মাহবুবুল হক খান। ২০১১ সালের ৫ জুন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর ১৪ বছর পর এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন পপসম্রাট আজম খান।
মন্তব্য করুন