
: মো. শাহাদাত শাহ, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি (সৌদি প্রবাসী)
সৌদি আরবে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৪২ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন। একটি ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনার বিবরণ
* সময় ও স্থান: রোববার (স্থানীয় সময়) রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মক্কা-মদিনা রুটের মুহরাস বা মুফরিহাত এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুহরাস থেকে মদিনার দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।
* নিহতদের পরিচয়: ৪২ জন নিহত ওমরাহযাত্রীর সবাই তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ছিলেন। এদের মধ্যে ২০ জন নারী এবং ১১ জন শিশুও রয়েছে বলে সৌদিসূত্রে জানা গেছে।
* দুর্ঘটনার কারণ: যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি ডিজেল ট্যাংকারের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে বাসটিতে আগুন ধরে যায়, যার জেরে হতাহতের সংখ্যা এতটা বেড়েছে।
* যাত্রীদের অবস্থা: জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর গভীর শোক ও নির্দেশ
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
* মুখ্যমন্ত্রী দুর্ঘটনায় ৪২ জন তেলেঙ্গানাবাসীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।
* তিনি রাজ্যপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা নিহত ও আহত যাত্রীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের খোঁজখবর নেন।
* কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
* বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদিতে যে কোনো সহায়তা পাঠাতে রাজ্য সরকার প্রস্তুত।
হায়দরাবাদের এমপির তৎপরতা
হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে জানিয়েছেন যে, ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বাসটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল।
* তিনি সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) আবু মতিন জর্জের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
* নিহত ও আহত যাত্রীদের নাম-পরিচয় জানতে তিনি হায়দরাবাদভিত্তিক দু’টি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
* তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে অনুরোধ জানিয়েছেন— নিহতদের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য।






















