অনলাইন ডেস্ক
৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প যতই চাক ভেনেজুয়েলা কখনো পানামা হবে না

আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট শেষবার যখন লাতিনের কোনো শক্তিশালী শাসককে ধরে আনার জন্য সেনা পাঠিয়েছিলেন, তখন আমি ছিলাম এক তরুণ সাংবাদিক। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে বসে বড়সড় একটি টেলিভিশনে ‘অপারেশন জাস্ট কজ’-এর ঝাপসা দৃশ্য দেখছিলাম।

১৯৮৯ সালে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের সেই হামলার ফল ছিল প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নরিয়েগার গ্রেপ্তার ও পরে মাদক পাচারের মামলায় বিচার। ওয়াশিংটনে এ অভিযানকে আজও ‘আদর্শ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হয়।

এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলায় কথিত বড় পরিসরের হামলার পরিকল্পনাকারীরা পানামার সঙ্গে তুলনা টানছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। উপস্থাপনাটাও প্রায় একই রকম। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মাদকনির্ভর স্বৈরশাসক, একটি নিখুঁত সামরিক অভিযান এবং তাঁকে ধরে এনে আমেরিকার আদালতের মুখোমুখি করা।

শনিবার সকালে কারাকাসের আকাশে যখন ধোঁয়া উড়ছে এবং ভেনেজুয়েলার মানুষ অন্ধকার রাস্তায় দৌড়াচ্ছে, ট্রাম্প সেটিকে বলেছেন এক চমৎকার অভিযান। তিনি গর্ব করে বলেন, দুর্দান্ত সেনাদের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কিন্তু ভেনেজুয়েলা পানামা নয়। আর ট্রাম্প প্রশাসন যদি ভাবে—তারা অপারেশন জাস্ট কজের সাফল্য সহজে অনুকরণ করতে পারবে, তাহলে তাদের সামনে কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে।

সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্যটি শুরুতেই সামনে আসছে। তা হলো ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ যখন পানামায় হামলার নির্দেশ দেন, তখন সেখানে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল।

দক্ষিণ কমান্ডের সদর দপ্তর ছিল পানামার মাটিতেই। ক্যারিবিয়ান সাগর পেরিয়ে শক্তি প্রদর্শনের দরকার পড়েনি। তারা আগেই সেখানে প্রস্তুত ছিল সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে এবং গিলার্মো এন্দারাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বসাতে। তারা পানামা ডিফেন্স ফোর্সকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পেরেছিল।

তবে ভেনেজুয়েলা একেবারেই ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড কিংবা ইও জিমা অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ নিঃসন্দেহে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ, কিন্তু সেগুলো ভেনেজুয়েলার উপকূলের বাইরে ভাসছে, দেশের ভেতরে নয়। হঠাৎ আঘাত করে কাউকে ধরে আনার মতো অভিযান একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাতে পারে। কিন্তু শুধু এটুকু দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের একটি দেশ শাসন করা যায় না।

আমি বহু বছর ইরাক যুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে বুঝেছি, একজন স্বৈরশাসককে সরানোই সবচেয়ে সহজ কাজ। কঠিন কাজটি শুরু হয় তার পরে। আর সেই কাজই ঠিক করে দেয় কোনো হস্তক্ষেপ সফল হবে, না ব্যর্থ হবে।
আরও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, মাদুরোর জায়গায় আসবে কে? পানামা ছিল ছোট্ট একটি দেশ, যা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ছিল। ভেনেজুয়েলার নিজস্ব ও জটিল রাজনৈতিক পরিবেশ আছে, যেখানে শক্তিশালী শাসক সরে গেলেই সবকিছু স্বাভাবিকভাবে বিরোধীদের হাতে চলে যায় না। বলিভারিয়ান সশস্ত্র বাহিনী, যাকে ফ্যানবি বলা হয়, এখনো অক্ষত রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসির বৈঠকে উঠছে তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার নথি : ইসি সচিব

এই ফ্যানবি পানামা ডিফেন্স ফোর্সের মতো নয়। চাভেজ ও মাদুরো—দুজনের আমলেই একে পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে, যেন অভ্যুত্থানের ঝুঁকি কমে। কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা খণ্ডিত করা হয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে ভেতরে-ভেতরে প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার জন্য হুমকি হতে পারে বলে মনে হয়েছে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সম্পর্ক আরও শক্ত হয়েছে অবৈধ অর্থনীতির মুনাফার মাধ্যমে, যা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সমানভাবে লাভবান করেছে।

সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্যটি শুরুতেই সামনে আসছে। তা হলো ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ যখন পানামায় হামলার নির্দেশ দেন, তখন সেখানে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল।

দক্ষিণ কমান্ডের সদর দপ্তর ছিল পানামার মাটিতেই। ক্যারিবিয়ান সাগর পেরিয়ে শক্তি প্রদর্শনের দরকার পড়েনি। তারা আগেই সেখানে প্রস্তুত ছিল সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে এবং গিলার্মো এন্দারাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বসাতে। তারা পানামা ডিফেন্স ফোর্সকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পেরেছিল।

তবে ভেনেজুয়েলা একেবারেই ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড কিংবা ইও জিমা অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ নিঃসন্দেহে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ, কিন্তু সেগুলো ভেনেজুয়েলার উপকূলের বাইরে ভাসছে, দেশের ভেতরে নয়। হঠাৎ আঘাত করে কাউকে ধরে আনার মতো অভিযান একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাতে পারে। কিন্তু শুধু এটুকু দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের একটি দেশ শাসন করা যায় না।

আমি বহু বছর ইরাক যুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে বুঝেছি, একজন স্বৈরশাসককে সরানোই সবচেয়ে সহজ কাজ। কঠিন কাজটি শুরু হয় তার পরে। আর সেই কাজই ঠিক করে দেয় কোনো হস্তক্ষেপ সফল হবে, না ব্যর্থ হবে।
আরও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, মাদুরোর জায়গায় আসবে কে? পানামা ছিল ছোট্ট একটি দেশ, যা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ছিল। ভেনেজুয়েলার নিজস্ব ও জটিল রাজনৈতিক পরিবেশ আছে, যেখানে শক্তিশালী শাসক সরে গেলেই সবকিছু স্বাভাবিকভাবে বিরোধীদের হাতে চলে যায় না। বলিভারিয়ান সশস্ত্র বাহিনী, যাকে ফ্যানবি বলা হয়, এখনো অক্ষত রয়েছে।

এই ফ্যানবি পানামা ডিফেন্স ফোর্সের মতো নয়। চাভেজ ও মাদুরো—দুজনের আমলেই একে পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে, যেন অভ্যুত্থানের ঝুঁকি কমে। কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা খণ্ডিত করা হয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে ভেতরে-ভেতরে প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার জন্য হুমকি হতে পারে বলে মনে হয়েছে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সম্পর্ক আরও শক্ত হয়েছে অবৈধ অর্থনীতির মুনাফার মাধ্যমে, যা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সমানভাবে লাভবান করেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১০

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১১

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৩

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৪

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৫

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৬

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৭

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৮

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৯

স্পিকারের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে জোর

২০