অনলাইন ডেস্ক
৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

১৯ বছর পর রায়, ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর। রমজান মাস। ইফতারের পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের রাস্তা। লোকজনের যাতায়াত তখনো কমেনি। সেই রাস্তার ওপরই রিকশা থেকে নামিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্র ও কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদুল হাবিব রুবেলকে।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আলোচিত হত্যকাণ্ডের এই মামলার রায় হয়েছে বুধবার (৭ জানুয়ারি)। চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন রায়ে চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। খালাস পেয়েছেন চারজন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ, আবু এরশাদ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন সোহেল। তাদের মধ্যে জাহেদুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অন্যদিকে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ ও আজাহারুল ইসলাম ছোটন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন, নিহত এরশাদুল হাবিব রুবেলের মা ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর কুতুবদিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

আরও পড়ুন  টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার

মামলার কার্যক্রম শেষ হতে দীর্ঘ বছর লাগার কারণ হিসেবে পিপি আশরাফ চৌধুরী বলেন, ‘বাদীপক্ষের সাক্ষীদের বিগত সরকারের আমলে আদালতে উঠতে দেওয়া হয়নি।’

ভাই হত্যার মামলা লড়তেই দুই ভাই-বোন আইনজীবী: ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম ও অ্যাডভোকেট পাইরিন আক্তার ভাই-বোন। দুজনই উচ্চ আদালতের আইনজীবী। বড় ভাই রুবেল যখন খুন হন, তখন হানিফ দশম শ্রেণিতে ও পাইরিন এইচএসসিতে পড়ছিলেন। ভাইয়ের খুনিদের সঙ্গে আইনি লড়াই করতে দুজনেই হয়েছেন আইনজীবী। এই সময়ের মধ্যেই মারা যান তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও মামলার বাদী মা। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর মারা গেছেন তাদের মা। ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি মামলার বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন কাশেম।

মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে ভয়ভীতি দেখানোর নেপথ্যে ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী—অভিযোগ হানিফ ও পাইরিনের। তারা জানান, ফরিদের পৃষ্ঠপোষকতায় রুবেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পদও পেয়েছিলেন। ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছিলেন সাক্ষ্য না দিতে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০