
বিএনপি জোট প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয়ী রুমিন ফারহানা
………………………………………..
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) চমকপ্রদ ফলাফলে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। ১৫২টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রুমিন ফারহানা মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪টি ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ১১৩ ভোট, যা এ আসনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এন. তরুণ দে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৫৬০ ভোট। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন মাহদি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৪০১ ভোট।
ভোটার উপস্থিতি ও পরিসংখ্যান:
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭৬টি। ভোটগ্রহণ সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ফলাফল ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া;
ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হলে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করা হয়। সমর্থকরা এ জয়কে “জনতার রায়” হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজয়ী প্রার্থী রুমিন ফারহানা এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তিনি কাজ করবেন। এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ফলাফল মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় ব্যবধানে এই জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আসনে এমন ফলাফল আগামী দিনে দলীয় কৌশল ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নির্বাচনের উত্তাপ শেষে এখন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমই হবে মূল আলোচ্য বিষয়। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাশার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—এখন সেই প্রত্যাশা পূরণই নতুন প্রতিনিধির জন্য বড়
মন্তব্য করুন