
বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারি দল শপথ না নিয়ে তারা জুলাইকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে। এতে জন–আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তবে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আজ ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন। আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল গতকাল গভীর রাতে। যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপর আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা এসেছিলাম শপথ নিতে। ইতিপূর্বে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করেছি, একই দিনে একই সময়ে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। এবারই বোধ হয় আপনারা তার ব্যতিক্রম লক্ষ করেছেন। সরকারি দল আমাদের আগে শপথ নিয়েছে।’
জামায়াতসহ ১১ দলকে সংসদ সচিবালয় থেকে যে পত্র বা চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, চিঠিতে বলা হয়েছিল, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা প্রথমে শপথ নেবেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আরেকটা শপথ হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে “স্যার, সকালবেলা সরকারি দলের তাঁরা শপথ নিয়েছেন। তাঁরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?” আমরা তখন বললাম যে আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি।’
জামায়াতসহ ১১ দলের সংসদ সদস্যরা কেন দুটি শপথ নিতে এসেছেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি যে ছাব্বিশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই ছাব্বিশ সালের নির্বাচনটা হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আজকে হয়তো শপথ নিতে ভিন্নচিন্তা করতে পারতাম। কারণ, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায়—এই দুটির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমরা গণ্য করেছি। আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান করেছি, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেছি। যাঁরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান করেছি এবং আমরা একমত হয়েছি যে এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’
সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সে প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদিও তারা ব্যাখ্যায় বলেছে যে সংসদ বসে, প্রভিশন পিরিয়ড করে দেখবে। আমরা এটা দ্রুত দেখতে চাই। যদি তারা জুলাইকে সম্মান করে, যদি সংস্কারকে তারা ধারণ করে—আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন, তিনি নিজেও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে গিয়ে বলেছেন যে “আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন”—যদি এর প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল হন, আমরা মনে করি, তাঁরা ওই শপথও নেবেন। কার কাছে শপথ নেবেন, সে দাবি আমরা করব না। ওনাদের পছন্দমতো অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির কাছে উনারা নিতে পারেন। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা দেখতে চাই, জুলাই সম্মানিত হয়েছে এবং জুলাই স্বীকৃত হয়েছে। জুলাইকে অসম্মান-অশ্রদ্ধা করে, স্বীকৃতি না দিয়ে ছাব্বিশের এই পার্লামেন্ট নিশ্চয়ই কোনো গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।’
এ সময় জামায়াতের আমির সরকারি প্লট ও ট্যাক্সবিহীন গাড়ি না নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্তে আমরা অবিচল এবং অটল। আমরা এই সুবিধা নেব না। এ ছাড়া বাকি কতটুকু না নিয়ে পারা যায়, সেটাও আমরা দেখব।’
মন্তব্য করুন