অনলাইন ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ ডেমরা সেতু

ডেমরা সেতু সংস্কারের পরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যাত্রিবাহী পরিবহনগুলোকে। এক্সপানশন জয়েন্ট রাবার স্থাপনসহ কিছু সংস্কারকাজ শেষ হলেও অরক্ষিত অবস্থাতেই রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীতে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ডেমরা সেতুর একটি সড়কবাতিও জ্বলে না বলে ক্রমেই এখানে বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির অভাবে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সেতুর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ করা হয়নি। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, স্বল্প বাজেট ও তাদের প্রকৌশল বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষে এ সেতুর শতভাগ সংস্কারকাজ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান কইকা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তিতে বরাদ্দের ভিত্তিতে বাকি সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে সকল সমস্যার অবসান ঘটবে।
 

বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহের কাজ শেষে গত ২৮ নভেম্বর সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। যানবাহন চলাচল শুরু হলেও বিপত্তি যেন শেষ হয়নি। সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ২৪টি এক্সপানশান জয়েন্ট রাবারের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ১২টির। এর মধ্যে ১২ ও ১৩ নম্বর এক্সপানশন মুভমেন্ট জয়েন্টের অবস্থা ভয়াবহ হলেও সংস্কার করেনি নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ পূর্বাঞ্চলের ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে সংযুক্ত করেছে ডেমরা সেতু। রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত করে মেগাসিটিতে রূপ দিতে তৎকালীন সরকার ২০০৬ সালে শীতলক্ষ্যার ওপর এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নেয়। ২০১০ সালে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে সংযুক্ত করতে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কোরিয়ান কম্পানির মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে সেতুটি ঢাকাগামী বিভিন্ন জেলার মানুষের দ্রুত চলাচলকে অনেক সহজ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারের পরও সেতুটি রয়েছে নাজুক অবস্থায়।

ভারি যানবহন চলাচলে সেতুটিতে আগের মতোই কম্পন অনুভূত হচ্ছে। খুলে যাওয়া এক্সপানশান জয়েন্টের রাবারগুলো স্থাপন করা হয়নি। এখনো মুভমেন্ট জয়েন্টের ২৪টির মধ্যে ১২টি বেহাল অবস্থায় আছে। এগুলোর ভেতরের নাট-বল্টু লাগানো হয়নি। সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও পথচারীদের চলাচলের জায়গায় কমপক্ষে আটটি স্লাবসহ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুটি। সেতুর একপাশের জয়েন্টের সঙ্গে অন্যপাশের জয়েন্ট সমান্তরাল থাকছে না। এ ছাড়াও সংস্কারের সময় সেতুর ল্যাম্প পোস্টগুলো ঠিক করা হয়নি। দীর্ঘদিন আলোর ব্যবস্তা না থাকায় সেতুটি হয়ে উঠছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য। 

সরেজমিন আরো দেখা গেছে, সেতু কিছুটা সংস্কার হওয়ায় আগের তুলনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন চালকরা। একই সঙ্গে ছিনতাইকারী ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত অপরাধীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দলবেঁধে বা সাধারণ পথচারী বেশে অপরাধীরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম পাড়ের দিকে সেতুর নিচ থেকে দু’পাশ দিয়ে দুটো সিঁড়ি ও পূর্বপাড়ে একপাশ দিয়ে একটি সিঁড়ি সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় অপরাধীরা লুকিয়ে থাকতে বা সহজে পালিয়ে যেতে এগুলো ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুন  নাটোরে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি

ডেমরার রাজাখালি এলাকার বাসিন্দা আলমাছ আলী জানান, প্রায় প্রতিদিনই ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে এ সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। প্রায়ই সেতুর নিচে ও ওপরে গাড়ির গতিরোধ করে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয় ডাকাতরা। অনেককে কুপিয়ে জখমসহ অন্যত্র নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা ডেমরা থানায় দায়ের হয়েছে।

চালক ও যাত্রীরা জানান, এ পথ দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। সেতুর অবস্থা ভালো না থাকায় গাড়ির গিয়ার প্লেট ও  সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যায়। মাদকের কেনা-বেচা ও ছিনতাই এখাকার নিত্যদিনের ঘটনা। বেপরোয়া গতির যানবাহনেও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।

ডেমরা এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডেমরা সেতুটি সংস্কারের নামে সড়ক ও জনপদ সরকারের অর্থ অপচয় করেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যেভাবে সংস্কার করার কথা ছিল সেভাবে তারা কোনো কাজ না করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম কালের কণ্ঠকে জানান, পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকৌশল-বিধি মোতাবেক ডেমরা সেতুর ১২টি এক্সপানশন জয়েন্ট রাবার পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে সেতুর বাকি কাজগুলোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করছে। তাদের ও আমাদের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সেতুর বাকি সংস্কার কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, গেল মাসে প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ রেখে সেতুর কয়েকটি এক্সপানশন জয়েন্ট ঠিক করাসহ অতিগুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করা হয়েছে। সেজন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। পরবর্তিতে সেতুতে কম্পন অনুভূত হওয়াসহ মুভমেন্ট জয়েন্ট রাবার পুনঃস্থাপন, ফাটল ও ল্যাম্পপোস্টের লাইনসহ বাতি স্থাপনে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের কথা ভাবছে সরকার।

ডেমরা থানার ওসি মোহম্মদ তাইফুর রহমান মির্জা কালের কণ্ঠকে জানান, ডেমরা সেতুটি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট  বসিয়ে প্রতিরাতেই পুলিশ ডিউটি দিয়ে থাকে। সেতুটির অর্ধেক ডেমরা থানার অন্তর্ভুক্ত বলে ওপরে ডিউটি কম হয়। তবে ট্রাফিক ও থানা পুলিশ সেতুর পশ্চিম পাশে থাকে বলে সেখানটা অনেকটা নিরাপদ। তিনি বলেন, আমি ডেমরা থানায় নতুন যোগদান করেছি, পরিস্থিতি সব পর্যবেক্ষণ করছি। সেতুর ওপরে টহল ডিউটি বাড়ানো হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে কে? আলোচনার শীর্ষে এস এ খোকন

টাইব্রেকারে মিসের মহড়া, ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

২৫ লাখ টাকা নিয়ে লিখিতভাবে দাবি ছেড়ে দেওয়ার পর আবার অবৈধ দখলের চেষ্টা! ডেমরার ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ সম্পত্তি..

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

১০

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

১১

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

১২

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১৩

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১৪

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১৫

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৭

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৮

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৯

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

২০