
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিজ ফরিদা আখতার বলেছেন ৪ এফ মডেলের রেপ্লিকা মডেল দিয়ে ঘাস থেকে শুরু করে বায়ু ফুয়েল এবং জৈবসার তৈরীর যে প্রক্রিয়া সেটি খুব কম খরচে ক্ষুদ্র খামারী পর্যায়েও করা যাবে। এর মাধ্যমে গরু পালন আরও সহজ হবে। ঘাসের উপর তারা নির্ভরশীলতা বাড়াতে পারছে এবং দানাদার খাবারে নির্ভরশীলতা কমাতে পারছে। এর অর্থ কেনা খাবার কম লাগবে। উৎপাদন খরচ কমে গেলে নিশ্চয় মাংসের দামও কমে যাবে এবং মাংসের সরবরাহ বাড়াতে পারবো।
০৬ জানুয়ারি (সোমাবার) বিকেলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইতে) ‘৪ এফ মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন ও সেমিনার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
এসময় উপদেষ্টা আরও বলেন, আমি সবসময় ক্ষুদ্র খামারীদের কথা চিন্তা করি এবং মূল্যায়ন করি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার কাছে এটি খুব সম্ভাবনাময় মডেল মনে হচ্ছে এবং এটা আমাদের আমিষের চাহিদা পূরনে ভুমিকা রাখবে। আমাদের প্রথম চেষ্টাই হলো উৎপাদনে খরচ কমানো। কারন উৎপাদনে খরচ কমানো না গেলে পন্যের দামটা কমবেনা। তাই বিদেশী জাত দিয়ে নিয়ে আমাদের দেশীয় জাতকে আরও বেশী সংখ্যক পালনের মাধ্যমে মাংসের উৎপাদন বাড়াতে পারলে দাম কমানো যাবে।
বর্তমান সরকারের সফলতার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রথমত নতুনভাবে নতুন ধরনের কাজ করে এবং নানা ধরনের মানুষকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে এবং নতুন চিন্তা করছে এটাই আমাদের সরকারের সফলতা। আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্নভাবে আমাদের যেসব সমস্যা সামনে এসেছে তাৎক্ষনিকভাবে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। এবং ভবিষ্যতের জন্য আমরা অনেকগুলো নীতি পরিবর্তন করে দিচ্ছি যা পরবর্তীতে যে সরকারই আসুক তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এগুলো কাজে আসবে।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত “আইওটি বেইজড ৪ এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনার ও ‘৪ এফ মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন করেন।
আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী মোঃ ওয়ালি-উল-হক। সেমিনারে বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ান।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে আগত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, প্রাণী ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং খামার ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিশেষজ্ঞ, খামারি, উদ্যোক্তা ও সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক “আইওটি বেইজড ৪ এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলমান প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ৪ এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই ও জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিজ আমিষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টি ও খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান এবং গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে মাটি ও মানব স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সাধন। প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে স্বল্প খরচে গুণগত মানসম্পন্ন প্রাণিখাদ্যের উৎপাদন, তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দুধ ও মাংসের উৎপাদন ২০-৩০% বৃদ্ধি করে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। গোবর ও খামারের উচ্ছিষ্টাংশের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানী উৎপাদন করে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপরে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা যাবে। পাশাপাশি বায়োগ্যাস হতে উৎপাদিত বায়োস্ফোরিকে বায়ো ফার্টিলাইজারে রূপান্তরিত করে ঘাসের জমিতে প্রয়োগের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৪০- ৫০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন