
কয়েকজন বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কিছু শীর্ষ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক্রমে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়া হলো। খবর আল জাজিরার।
কয়েক মাসের হুমকি-ধামকির অবশেষে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনিজুয়েলায় আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও কয়েক শহরে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনিজুয়েলা চালাবে আমেরিকা। সেই সঙ্গে এর তেলভাণ্ডারের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেন।
এদিকে মাদুরোর অপহরণের পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাকে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, রদ্রিগেজ যতক্ষণ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে তার দেশের তেলের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দেশ শাসন করতে দেবেন।
ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে এখন নানা পরিকল্পনা সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ভেনেজুয়েলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ধাপের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এটা ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা আনার মধ্যদিয়ে শুরু হবে, সেখানকার পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং একটি পরিবর্তন ঘটানোর মধ্যদিয়ে শেষ হবে।
তারই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিলো ভেনেজুয়েলার রদ্রিগেজ সরকার। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এনরিক মার্কেজ রয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন।
মুক্তি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকের মার্কেজ বলেন, ‘সব কষ্টের অবসান হলো’। এ সময় তার পাশে তার স্ত্রী, সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত আরেক বিরোধী সদস্য ছিলেন।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই সংসদের স্পিকার জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ জন্য একটা ‘বড় সংখ্যক ভেনেজুয়েলান এবং বিদেশি নাগরিক’ অবিলম্বে মুক্তি পাচ্ছে।
তবে কোন বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে, কতজন বা কোথা থেকে তা বিস্তারিত জানাননি তিনি। ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনালের অনুমান, দেশটির কারাগারে ৮০০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো রাজনৈতিক বন্দি মুক্তির প্রশংসা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘অন্যায় চিরকাল স্থায়ী হয় না এবং.. সত্য, যদিও তা আহত হয়, শেষ পর্যন্ত তার পথ খুঁজে পায়।’
মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশিদের মধ্যে পাঁচজন স্পেনের নাগরিক রয়েছে। এ ব্যাপারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় কারাগার থেকে পাঁচ স্প্যানিশ নাগরিককে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বিখ্যাত স্প্যানিশ-ভেনিজুয়েলান অধিকারকর্মী রোসিও সান মিগুয়েলও রয়েছেন। মাদুরোকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সান মিগুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিয়ে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য কীভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, এটা তার একটি উদাহরণ।’
মন্তব্য করুন