
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে জনসভা হবে, তাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্ততি নিয়েছে বিএনপি।
তিনি বলেছেন, “আপনারা দেখেছেন, বারবার শেখ হাসিনা এখানে সমাবেশ করেছে। কিন্তু কমপ্লিটলি ফেইল হয়েছে। কিন্তু বৈরী পরিবেশে ২০২১ সালে আপসহীন নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার যে মহাসমাবেশ করেছিলাম।
“ওই পরিবেশে আমরা সেটা বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক সমাবেশ ছিল। আজকের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর উনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে যে বার্তা নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে…মানুষের উচ্ছ্বাস আমরা দেখেছি। মানুষের মধ্যে ইমোশন কাজ করছে। উচ্ছ্বাস ও ইমোশনের মিশ্রণে আগামীকালের সমাবেশ আশা করি মহাসমুদ্রে রূপান্তর হবে।”
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি জনসভার প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। এদিনই রাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ এ তিনি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ওখান থেকে সরাসরি উনার যেখানে থাকার ব্যবস্থা, রেডিসন ব্লুতে সেখানে আসবেন। উনার বহর সম্ভবত অত বেশি থাকবে না, ৮-১০ জন নিয়ে উনি আসবেন।
“ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্সের লোকজন এখানে চলে এসেছে। সকাল ৭টায় তারা পৌঁছেছে। একটু পরে তারা এখানে আসবেন। পুরো স্থান রেকি করবেন। তারপর উনারা এয়ারপোর্ট যাবেন।”
রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সাথে একটি অনুষ্ঠান করবেন জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাথে মত বিনিময়ের পরে উনি এই সমাবেশে যোগ দেবেন। এই সমাবেশের পর ঢাকার পথে আরো পাঁচটি সমাবেশ উনার আছে। একটি ফেনীতে, কুমিল্লাতে তিনটি আর নারায়ণগঞ্জে একটি।
“এই ৫টি সমাবেশ শেষ করে উনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। অতীতে আমাদের এই সমাবেশগুলো মহাসমু্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আগামীকাল এই সমাবেশটি হবে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি সমাবেশ।”
ভোটের অধিকারের লড়াইয়ের জন্য মানুষ এত বছর সংগ্রাম করেছে মন্তব্য করে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত বলেন, “এই লড়াইটা ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই। এই ভোটের অধিকারের জন্য তারেক রহমান চট্টগ্রামের মাটিতে আসছেন। উনি মানুষকে শুধু এই আবেদনই করবেন, যে যাকে খুশি তাকে আপনারা ভোট দিবেন। কিন্তু গণতন্ত্রকে সমুন্নত করবেন।
“এবং ধানের শীষ যেহেতু গণতন্ত্রের প্রতীক, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই তারেক রহমান এই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রত্যেকটা জায়গায় যাচ্ছেন। চট্টগ্রামেও আসছেন।”
তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস কাজ করছে মন্তব্য করে ডা. শাহাদাত বলেন, “আশা করছি শৃঙ্খলার মাধ্যমে একটি সমাবেশ চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দিতে পারব। সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছে সে লক্ষ্যে।”
২৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী রোববারের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কালকে চট্টগ্রাম মিছিলের নগরীতে পরিণত হবে।”
২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তিনি।
রোববার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় এ মাঠে তার মা খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল।
রোববারের মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। ইতিমধ্যে দলের প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক লোক সমাগমের।
পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশের জন্য ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মঞ্চের উচ্চতা ৭ ফুট। যেখানে অন্তত ৩০০ লোক বসতে পারবে।
মন্তব্য করুন